মার্কিন হামলার প্রতিবাদে বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান ও ওমানে পাল্টা আঘাত ইরানের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে পাল্টা অভিযানের পঞ্চম ধাপ পরিচালনার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তাদের দাবি, বাহরাইন ও ওমানে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনা এবং নজরদারি ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ওমানে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা পাল্টা অভিযানের পঞ্চম ধাপ সম্পন্ন করেছে। বাহিনীর দাবি, বাহরাইনের জুফাইর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন উড়োজাহাজের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে।

একই সঙ্গে ওমানে অবস্থিত দূরপাল্লার আকাশ নজরদারি ব্যবস্থা এবং জাহাজ শনাক্তকারী রাডারকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। তাদের ভাষ্য, ওই দুটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এ অঞ্চলে সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহে আরও বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, ওমানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে দুকম শহর ও মুসানদাম অঞ্চলে অবস্থানকারীদের আপাতত নিজ নিজ বাসা, হোটেল বা নিরাপদ ভবনের ভেতরে থাকার এবং জানালার কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে প্রয়োজনীয় হালনাগাদ তথ্য নাগরিকদের জানানো হবে।

এ ছাড়া যারা মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করতে চান, তাদের সম্ভাব্য ভ্রমণব্যবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

মার্কিন দূতাবাসের বার্তায় আরও বলা হয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

 
 

তাসনিম হোসেন