নওগাঁয় হাসপাতালে স্ত্রীর বুকে ও পেটে ছুরিকাঘাত করে স্বামীর হত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে মুনিরা খাতুন (২৬) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ফরহাদ হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় এক মর্মান্তিক পারিবারিক কলহের জেরে হাসপাতালের ভেতরে স্ত্রীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মুনিরা খাতুন ধামইরহাট উপজেলার অমরপুর গ্রামের মাসুদের মেয়ে এবং আটক অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন জয়পুরহাট জেলার আটুল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মুনিরা খাতুন তার বোন মহসিনাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এদিকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। অভিযুক্ত স্বামী ফরহাদ হোসেন ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ রোববার ভোরে ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে ফেরেন।

সোমবার সকালে স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার খবর পেয়ে ফরহাদ হোসেন সরাসরি ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন। হাসপাতালের সামনে পৌঁছানোর পর স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ঝগড়ায় রূপ নেয়। উত্তেজনার চরম মুহূর্তে অভিযুক্ত ফরহাদ তার সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী মুনিরার বুক এবং পেটের বাম পাশে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ।

ঘটনার পরপরই হামলাকারী ফরহাদ হোসেন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালালেও হাসপাতালে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে তাকে ধরে ফেলেন এবং পরবর্তীতে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় মুনিরা খাতুনকে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত স্বামী ফরহাদ হোসেনকে আটক করে। ইতোমধ্যে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে মামলা দায়েরের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তাসনিম হোসেন