মাইকিং করেও সরানো যাচ্ছে না পাহাড়ের বাসিন্দাদের, আশ্রয়কেন্দ্রে গেল মাত্র ২৭০ জন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়ে গেলেও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতি ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না হাজারো বাসিন্দা। জেলা প্রশাসনের বারবার মাইকিং, প্রচারণা এবং আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পরও অনেকেই পরিবার নিয়ে পাহাড়ের ঢালে বসবাস অব্যাহত রেখেছেন।

প্রশাসন জানায়, গত সোমবার থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে মৃত্যুঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা হলেও অনেক বাসিন্দা বসতি ছাড়তে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রশাসনের দাবি, উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও দিনে সরিয়ে দেওয়া বসতিগুলো রাতে আবার গড়ে তোলা হয়। ফলে বছরের পর বছর ধরে পাহাড়ে অবৈধ বসতি নিয়ে এক ধরনের লুকোচুরি চলছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ভূমিহীন ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হলে পাহাড়ে অবৈধ বসতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, সরকারি খাসজমি বরাদ্দের মাধ্যমে পুনর্বাসন নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রভাবশালী একটি চক্র ভূমিহীন মানুষদের ব্যবহার করে সরকারি পাহাড় দখলে রাখছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নগরীর চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৭০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে ২০০৭ সালের ১১ জুন ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২৭ জন নিহত হওয়ার পর থেকে একাধিকবার একই ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এরপর পাহাড় ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৭টি পাহাড়ের মধ্যে ১০টি ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং সাতটি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অধীনে রয়েছে। এসব পাহাড়ে অন্তত ৮৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে লালখান বাজার, খুলশী, পাহাড়তলী, আকবর শাহ, বায়েজিদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকাগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন ও সম্পদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাসনিম হোসেন