রাজশাহীতে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্রকে বেধড়ক মারধর: ছাত্রদল নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে এক বৃদ্ধের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় শাহীন আলী নামের এক কলেজছাত্রকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) আরএমপি’র (রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ) শাহমখদুম থানায় আহত রাজশাহী কলেজের ছাত্র শাহীন আলী বাদী হয়ে এই মামলাটি রুজু করেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল মন্ডল আহাদ, স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদল কর্মী মো. পলাশ আলী এবং ওয়ার্ড ছাত্রদল কর্মী আজিজুল ইসলাম। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুলাই জুমার নামাজের আগে শাহীন আলী শাহমখদুম থানা মোড়ের একটি বিকাশের দোকানে ব্যক্তিগত লেনদেন করতে যান। ওই সময় অভিযুক্ত আসামিরা দুলাল মন্ডল নামের এক বৃদ্ধকে মারধর করতে করতে ওই বিকাশের দোকানের সামনে নিয়ে আসে। তারা ওই বৃদ্ধকে একটি নির্দিষ্ট নম্বরে ৩০ হাজার টাকা বিকাশ করার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছিল। নিরুপায় বৃদ্ধ দুলাল মন্ডল তখন আসামিদের বলছিলেন যে, তাঁর কাছে এই মুহূর্তে নগদ ৩০ হাজার টাকা নেই, তবে তাঁর মেয়ের বিকাশে টাকা আছে। টাকাটা দিতে হলে বাসা থেকে ফোন এনে দিতে হবে। মারধরের মুখে ওই বৃদ্ধ পথচারীদের কাছে বাঁচার আকুতি জানালেও আসামিদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। উল্টো আসামিরা তাঁকে মেরে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল।

বৃদ্ধের এই করুণ অবস্থা দেখে রাজশাহী কলেজের ছাত্র শাহীন আলী এগিয়ে যান এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে শাহীন নিজের মুঠোফোনে এই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করা শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। তারা শাহীনের মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয় এবং তাঁকে সড়কের ওপর ফেলে বাঁশের লাঠি ও কাঠের চয়লা দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। যাওয়ার আগে তারা শাহীনের ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোনটি আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত শাহীনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে শাহীন আলী গত ৭ জুলাই শাহমখদুম থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে পুলিশ মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। তবে পরদিন ৮ জুলাই পুলিশ নিজেই শাহীনকে ফোন করে এজাহার জমা দিতে বলে। এরপর চাঁদাবাজি, মারধর ও প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

ভুক্তভোগী কলেজছাত্র শাহীন আলী বলেন, "চাঁদাবাজরা একজন বৃদ্ধকে অন্যায়ভাবে মারধর করছিল। নাগরিক দায়িত্ব থেকে আমি তার প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে রক্তাক্ত করেছে এবং আমার দামী ফোনটি ভেঙে ফেলেছে। আমি আশা করি পুলিশ দ্রুততম সময়ে এই চাঁদাবাজদের গ্রেফতার করবে।" তবে এই বিষয়ে মামলার প্রধান আসামি ছাত্রদল নেতা শাকিল মন্ডল আহাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

যাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত, সেই বৃদ্ধ দুলাল মন্ডল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "চাঁদাবাজরা আমাকে ফাঁদে ফেলে প্রথমে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। পরে জোরপূর্বক ধরে এনে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মেয়ের বিকাশ থেকে টাকাটা পরিশোধ করে কোনোমতে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পাই। শাহীন আমার জন্য প্রতিবাদ করায় তাকেও ওরা নির্মমভাবে মেরেছে। এমনকি চাঁদাবাজরা আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও রেখে দিয়েছে, আমি আতঙ্কে আছি।"

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপি’র শাহমখদুম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলীম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পূর্বশত্রুতা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তাসনিম হোসেন