পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর চরম সংকটে তৃণমূল, প্রতীক হারানোর শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের পর এবার অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও নিজেদের দলীয় প্রতীক ‘জোড়া ঘাসফুল’ হারানোর তীব্র আশঙ্কায় পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির ক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করার পর থেকে প্রতীকের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত সোমবার বিক্ষুব্ধ নেতারা দলটির শীর্ষ পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। নতুন এই কমিটিতে হাওড়া মধ্যের বিধায়ক ও সাবেক মন্ত্রী অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও তিনজনকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে।

বিদ্রোহী নেতাদের এই আকস্মিক পদক্ষেপের পর এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—তারা কি তৃণমূলের মূল প্রতীক ‘জোড়া ঘাসফুল’-এর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ দাবি করবে? এদিকে মমতাপন্থী শিবির এই ঘটনাকে চরম 'বিশ্বাসঘাতকতা' বলে আখ্যা দিয়েছে এবং জড়িত আট নেতাকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ পাঠিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রতীক রক্ষা করা কঠিন হতে পারে, কারণ বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে নতুন কমিটির নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফলে প্রতীক নিয়ে একটি বড় ধরনের আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

দলের এই অসন্তোষ শুধু বিধানসভাতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা লোকসভার তৃণমূল এমপিদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী সাংসদ ইতিমধ্যে এনসিপিআইতে (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া) যোগ দিলেও তারা তৃণমূলের আদি প্রতীকের দাবি ছাড়তে নারাজ। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে গত ১৮ জুন অভিনেত্রী ও সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে জাতীয় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। দল গঠনের পর থেকেই এই 'জোড়া ঘাসফুল' প্রতীকটি বাংলার মানুষের কাছে দলটির মূল পরিচয় হয়ে ওঠে। তবে এই প্রতীকের নকশা বা ডিজাইন নিয়ে অতীতেও বিতর্ক ছিল। চিত্রশিল্পী সোমনাথ চৌধুরী এটি তার নিজের তৈরি বলে দাবি করলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই নিজেকে এর প্রকৃত স্রষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে এসেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে শুধু নেতৃত্বই নয়, তৃণমূলের এই ঐতিহাসিক প্রতীকটির ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হবে।

তাসনিম হোসেন