যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে ইরানের ওপর কোনো সামরিক হামলা শুরু করে, তবে এই সংঘাতের ভৌগোলিক পরিধি আরও বহুগুণ বিস্তৃত হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরানি সেনাবাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যেকোনো নতুন আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এক বক্তব্যে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আর্কেমিনিয়া মার্কিন প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইসরায়েলিদের কোনো চক্রান্তমূলক ফাঁদে পা দেয় কিংবা তাদের প্ররোচনা ও নির্দেশ অনুযায়ী ইরানবিরোধী যুদ্ধ অব্যাহত রাখে—বিশেষ করে বিমান হামলার মতো কোনো দুঃসাহস দেখায়—তবে এই যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর পরিধি অনেকদূর ছড়িয়ে পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আগামী মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাত করার কথা রয়েছে। একই সফরে তিনি ইসরায়েলপন্থি প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন।
এদিকে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হুংকার দিয়ে ইরানের সেনাবাহিনীর আরেক মুখপাত্র জেনারেল আব্দুলফজল শেখারচি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা মূলত ইরানকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করতেও ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও চরম অনাকাঙ্ক্ষিত বলে অভিহিত করেন।
জেনারেল শেখারচি আরও দাবি করেন যে, চলমান সংঘাত থেকে নিজেদের বের করে আনতে যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন নতুন কৌশল বা পথ খুঁজছে। তবে তেহরানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার মতে, মার্কিনিরা চাইলেও এখন নিজেদের ইচ্ছামতো যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে আসতে পারবে না; কারণ এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের বা ইহুদিবাদী শক্তির অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বরাত দিয়ে এই তথ্যগুলো জানা গেছে।