যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে একটি নতুন চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন বাহিনী পুনরায় জোরালো হামলা শুরু করবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন যে বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বেশ ভালো এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে খুব দ্রুতই ইতিবাচক কিছু ঘটতে পারে। তবে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ফের আগের মতো কঠোর অবস্থানে ফিরে যাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে গত জুলাইয়ের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের ট্যাংকারে ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন সেন্টকম ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় টানা ১৩ রাত ধরে বিমান অভিযান চালায় এবং ইরানও এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। গত ২৫ জুলাই থেকে সেন্টকম এই সামরিক অভিযানে বিরতি দেয়, যার ফলে ইরানও পাল্টা হামলা স্থগিত রাখে।
এদিকে সাম্প্রতিক এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে এবং তেহরান কূটনীতি থেকে সরে যায়নি, যদিও সরাসরি আলোচনার অনুরোধের খবরটি ভিত্তিহীন। এর আগে ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান মুলতবি রাখবে। মূলত দুই পক্ষের এই সমঝোতা ও বার্তার ধারাবাহিকতার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প ইরানে মার্কিন অভিযান স্থগিত রাখার সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট করলেন। যদিও এর আগে গত ২৬ জুন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শান্তি সংলাপ শুরুর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।