নেত্রকোণায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার দায়ে স্বামী শফিকুল ইসলামকে (৪২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ.কে.এম এমদাদুল হক এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার রত্নপুর গ্রামের মো. সোনা মিয়ার মেয়ে পারভীন আক্তারের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে কলমাকান্দার ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৯ ও ৫ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শফিকুল তার মা-বাবার সহায়তায় যৌতুকের দাবিতে পারভীনের ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ আসামি শফিকুল ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। পারভীন তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারাত্মকভাবে মারধর করা হয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পারভীন বাবার বাড়ি চলে যান। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে আবার স্বামীর বাড়ি পাঠানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায়, ওই বছরের ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে পারভীনের পরিবার জানতে পারে যে তিনি মারা গেছেন। খবর পেয়ে পারভীনের ভাই মো. আবু ইউসুফ স্বজনদের নিয়ে বোনের শ্বশুরবাড়িতে যান এবং বারান্দায় পারভীনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় নিহতের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দৃশ্যমান ছিল।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় নিহতের ভাই মো. আবু ইউসুফ বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় স্বামী শফিকুল ইসলাম, শ্বশুর তোরাব আলী এবং শাশুড়ি সখিনা খাতুনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত মূল অপরাধী শফিকুলকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শফিকুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে এই মামলায় সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ না থাকায় অপর দুই আসামি—নিহতের শাশুড়ি সখিনা খাতুন ও শ্বশুর তোরাব আলীকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. নুরুল কবির রুবেল রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "২০১৯ সালের এই চাঞ্চল্যকর মামলাটিতে স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সঠিক রায় দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"