খামেনির জানাজায় ৭০ দেশের প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, হরমুজে ছাড় পাবে বন্ধুরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এ ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আব্বাস আরাঘচি বলেন, বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। এর মধ্যে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এ উপস্থিতি ইরানের জন্য একটি গৌরবের বিষয় এবং দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে এটি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এদিকে চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুর রেজা রাহমানি ফাজলি জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন সেবা ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান। তবে বর্তমান সংকটকালে যেসব দেশ ইরানের পাশে ছিল, তারা বিশেষ ছাড় পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রথম ষাট দিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বিনা ফিতে করা হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। এরপর কী নিয়ম কার্যকর হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনায় ইরান ও ওমান যৌথভাবে একটি নতুন কাঠামো গঠনের কাজ করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রণালীর একটি অংশ ইরানের আঞ্চলিক সীমানার মধ্যে পড়ায় সেখানে সেবা ফি আরোপ করা হবে। তবে এটি কোনো বাধ্যতামূলক কর বা টোল নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

নতুন ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হিসেবে তিনি জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাসকে উল্লেখ করেন।

এদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, তেহরানের গ্র্যান্ড প্রেয়ার গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দ্বিতীয় দিন শেষে বিপুলসংখ্যক শোকাহত ও বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ জুলাই শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এবং এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, সংসদীয় নেতা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিশেষ দূত অংশ নিচ্ছেন।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান, তাজিকিস্তান ও আর্মেনিয়ার শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

এছাড়া সৌদি আরব, কাতার, ওমান, মিসর, ভারত, আফগানিস্তান, লেবানন, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনসহ বহু দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেয় বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানি সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে এ অনুষ্ঠানে অংশ না নিতে চাপ প্রয়োগ করেছিল। তবে এরপরও উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

তবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু বা “শহীদ হওয়া” সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য আন্তর্জাতিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তাসনিম হোসেন