শরীয়তপুরে প্রায় নয় বছর আগে সংঘটিত স্কুলছাত্রী রিমা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া চার আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেছেন উচ্চ আদালত। নতুন রায়ে দুই আসামিকে সম্পূর্ণ খালাস এবং অপর দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ আদালতের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, শরীয়তপুরের জাজিরা থানা এলাকায় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নির্মমভাবে পৈশাচিক নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয় স্কুলছাত্রী রিমা আক্তার। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ওই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর রিমার পিতা ইলিয়াস চৌকিদার বাদী হয়ে জাজিরা থানায় একটি হত্যা ও নির্যাতন মামলা দায়ের করেন।
মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে শরীয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ৭ মে এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে নিম্ন আদালত চারজন আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। সর্বোচ্চ সাজাপ্রাপ্ত সেই আসামিরা হলেন—চুন্নু মোড়ল, নুরু মোড়ল, সেলিম চৌকিদার ও স্বপ্না বেগম।
উচ্চ আদালতের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল
আইনি নিয়ম অনুযায়ী, নিম্ন আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরের জন্য উচ্চ আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, যা 'ডেথ রেফারেন্স' নামে পরিচিত। শরীয়তপুরের আদালতের এই রায়টিও অনুমোদনের জন্য উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন দায়ের করেন।
চূড়ান্ত শুনানি ও দণ্ড পরিবর্তন
দীর্ঘদিন ধরে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক এবং মামলার নথিপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন আদালত।
আজ সোমবার ঘোষিত চূড়ান্ত রায়ে উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া পূর্বের মৃত্যুদণ্ডের রায়টি বাতিল ঘোষণা করেন। নতুন আদেশে, মামলার দুই আসামি স্বপ্না বেগম ও সেলিম চৌকিদারকে অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপর দুই আসামি চুন্নু মোড়ল ও নুরু মোড়লের অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে তাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের ফলে দীর্ঘ নয় বছর পর বহুল আলোচিত এই মামলার আইনি প্রক্রিয়ার একটি বড় ধাপ সম্পন্ন হলো।