জুনে আরও চার এলএনজি কার্গো আমদানি করবে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

দেশে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের চাহিদা পূরণে চলতি জুন মাসে আরও চার কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অতিরিক্ত এই আমদানির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং উৎপাদন খাতে জ্বালানি সংকট কমানোর আশা করা হচ্ছে।

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলায় চলতি মাসে মোট নয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচটি কার্গো দেশে এসে পৌঁছেছে। বাকি চারটি কার্গো আমদানির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের পরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জুন মাসে নির্ধারিত গ্যাসের চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি চারটি কার্গো দেশে এলে প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ তাপ একক পরিমাণ গ্যাস জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, জুন মাসের জন্য নির্ধারিত নয়টি কার্গোর মধ্যে পাঁচটি সংগ্রহ করা হয়েছে খোলা বাজার ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায়। অবশিষ্ট চারটি কার্গোও খোলা বাজার থেকে সংগ্রহ করা হবে। সাধারণত প্রতিটি কার্গোতে গড়ে ৩২ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ তাপ একক গ্যাস থাকে।

এর আগে মে মাসে গ্যাস আমদানিতে নতুন রেকর্ড গড়েছিল সরকার। ওই মাসে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি খোলা বাজার থেকেও মোট ১১ কার্গো গ্যাস আমদানি করা হয়। এতে প্রায় তিন কোটি ৫২ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ তাপ একক গ্যাস দেশে আসে।

এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, দেশের জ্বালানি চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই চাহিদা পূরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা বাজার থেকেও গ্যাস সংগ্রহ করা হচ্ছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কাতার এনার্জি এবং ওমানভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহ করছে। পাশাপাশি ওকিউ ট্রেডিংয়ের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিও কার্যকর রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে খোলা বাজার থেকেও গ্যাস সংগ্রহ করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত গ্যাস আমদানির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটজনিত লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 
 

তাসনিম হোসেন