শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

রাজনৈতিক নানা সমীকরণ ও শারীরিক অসুস্থতার মধ্য দিয়ে অবশেষে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সব কিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার দুপুর নাগাদ তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠাতে পারেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদে বহাল থাকা না-থাকা নিয়ে রাজনীতিতে ব্যাপক চড়াও আলোচনা তৈরি হয়। ওই পটপরিবর্তনের পর সংবিধান মেনেই তাঁর কাছ থেকে শপথ নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর পুনরায় তাঁর নিকট শপথ গ্রহণ করে ক্ষমতা গ্রহণ করে বিএনপি সরকার।

বিগত দুই বছরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন একাধিকবার রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হলেও বিএনপি তাঁকে স্বপদে রাখার পক্ষে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে জানা গেছে।

বঙ্গভবন ও দায়িত্বশীল একাধিক নথিসূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে মৌখিকভাবে পদত্যাগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। তখন তিনি ভাবার জন্য কিছুটা সময় চেয়ে নেন। যার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমানে তীব্র স্নায়ুভিত্তিক (নিউরো) জটিলতায় ভুগছেন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে এ শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে। পদত্যাগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর স্ত্রীসহ উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের ৯ মে রাষ্ট্রপতি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। যুক্তরাজ্য অবস্থানকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তিনি ফোনে যোগাযোগ করেন বলে গুঞ্জন ওঠে। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরেই সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানা যায়।

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসমর্থতা কিংবা ব্যক্তিগত কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে স্পিকারের নিকট পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আসন শূন্য হওয়ার সাথে সাথে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তাসনিম হোসেন