ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিশ্বকাপ ফুটবল প্রদর্শনীর আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবহারের বিনিময়ে প্রশাসন কোনো সুবিধা না পাওয়া, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে শিথিলতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করেছেন ডাকসুর সহসভাপতি সাদিক কায়েম। তিনি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে কার্যকর করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দে
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসুর সহসভাপতি সাদিক কায়েম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপ ফুটবল প্রদর্শনীর আয়োজন করলেও এর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো আর্থিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা অর্জন করেনি। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল আয়োজনটি যেন কেবল শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে খেলা উপভোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ শিক্ষার্থীদের অধিকারকে ছাপিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা।
তার অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদনের সব ধাপ সম্পন্ন না করেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি আয়োজন পরিচালনা করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজনের কথা বলা হলেও বাস্তবে এটি বাণিজ্যিক প্রচারের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি একটি ছাত্রসংগঠনের সহযোগিতায় পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাদিক কায়েম বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল প্রদর্শনী উপলক্ষে অনিয়ন্ত্রিত বহিরাগত প্রবেশের কারণে ক্যাম্পাসে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বিশৃঙ্খলা, অতিরিক্ত শব্দ, যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ, শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং খেলা চলাকালে মুঠোফোন হারানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে।
তিনি জানান, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ডাকসু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানায়। পরে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে গত চব্বিশ জুন প্রশাসন বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং যান চলাচল সীমিত করার নির্দেশনা দেয়। একই সঙ্গে প্রবেশপথে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ কার্যকর না হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল আয়োজক প্রতিষ্ঠানের আপত্তি। তাদের আশঙ্কা ছিল, বহিরাগত প্রবেশ সীমিত করা হলে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা প্রত্যাহার করতে পারে এবং এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এই অজুহাতে একটি ছাত্রসংগঠনের মাধ্যমে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ডাকসুর সহসভাপতির ভাষ্য, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছাড়া বহিরাগত নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নির্দেশনার কার্যকর প্রয়োগ আর কখনো দেখা যায়নি। নিজের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার স্থান নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবহৃত হলে তার প্রধান উপকারভোগী হতে হবে শিক্ষার্থীদের। কোনো পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক স্বার্থ কিংবা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর সুবিধার জন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাদিক কায়েম এ ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রশাসনের গৃহীত সব সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।