কক্সবাজারের উখিয়ায় টানা ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট পাহাড়ধসে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একই সাথে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে বসবাসকারী নাগরিকদের সুরক্ষায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে দলটি।
সোমবার (৬ জুলাই) দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ শোকবার্তায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি (মাগফিরাত) কামনা করেন এবং শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও শহরে পাহাড়ধসের তাণ্ডব
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ সোমবার ভোরে কক্সবাজারের উখিয়া এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টির কারণে আকস্মিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে উখিয়ার বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয়শিবিরে (রোহিঙ্গা ক্যাম্পে) ৮ জন এবং কক্সবাজার শহরের আরেকটি স্থানে পাহাড়ধসে ১ জনসহ মোট ৯ জন নাগরিক প্রাণ হারান। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতায় এবি পার্টির উদ্বেগ
এবি পার্টির শীর্ষ নেতৃদ্বয় বলেন, প্রতি বছর বর্ষা ঋতু এলেই পাহাড়ি অঞ্চলে ধস নেমে মানুষের মূল্যবান জীবনহানি ঘটে। কিন্তু এই ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঠেকাতে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর স্থায়ী ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাহাড়ের পাদদেশে এবং ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়শিবিরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও স্থানীয় প্রশাসনকে আরও বেশি দায়িত্বশীল এবং দূরদর্শী ভূমিকা পালন করতে হবে।
জরুরি ত্রাণ ও স্থায়ী সমাধানের আহ্বান
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় পাহাড়ধসে আহতদের দ্রুততম সময়ে উন্নত ও সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান। সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি খাদ্য সামগ্রী, নিরাপদ বাসস্থান এবং পুনর্বাসনের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ভবিষ্যতে এই ধরনের মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া বর্ষার আগেই আগাম সতর্কবার্তা জোরদার করা, ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং একটি টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি বাস্তবায়নের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।