ভারতকে নিয়ে সিরিজ আয়োজন করতে চায় বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় এক বছরের অনিশ্চয়তা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে অবশেষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ সফরের জন্য সম্ভাব্য সূচি চূড়ান্ত করার কাজ করছে বিসিসিআই ও বিসিবি, যা এখন কেবল ভারত সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

গত বছর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা জটিলতার কারণে ভারত বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেনি। পরবর্তীতে আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং নিরাপত্তা জনিত কারণে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে দল না পাঠানোর মতো ঘটনায় দুই বোর্ডের সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সব তিক্ততা পেছনে ফেলে এবার ক্রিকেটীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে দুই দেশের বোর্ড। সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত আইসিসির বৈঠকের ফাঁকে বিসিবি ও বিসিসিআই কর্তারা এ বিষয়ে আলোচনা করেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিসিআই এই সফর নিশ্চিত করতে দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নির্ধারিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) এই সিরিজ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। বিসিসিআইয়ের সুবিধাজনক সময়ে সিরিজ আয়োজনের জন্য ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের সব আন্তর্জাতিক ভেন্যু ফাঁকা রাখা হয়েছে এবং একাধিক বিকল্প সূচিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারতের শ্রীলঙ্কা সফর ২৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর আফগানিস্তান সিরিজ পেছালে সেপ্টেম্বরে তৈরি হওয়া দুই সপ্তাহের ফাঁকা সময়েই এই সিরিজটি আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম ভেন্যুতে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে আয়োজনের প্রস্তাব রয়েছে, এমনকি প্রয়োজন হলে একটি ভেন্যুতেই পুরো সিরিজ আয়োজন করতেও আপত্তি নেই বিসিবির।

এদিকে, আফগানিস্তান সিরিজ পেছানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসার মূল কারণ হিসেবে এই বাংলাদেশ সফরকেই ধরা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিসিসিআই নির্বাচকদের বিষয়টি অবহিত করেছে এবং আফগান সিরিজের প্রস্তুতিও স্থগিত রাখা হয়েছে। এর আগে মে মাসে আইপিএলের চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল জানিয়েছিলেন, অতীতের সব বৈরিতা ভুলে বিসিসিআই সব সদস্য বোর্ডের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে উভয় বোর্ডের ইতিবাচক মনোভাবের পরেও এই বহুল প্রতীক্ষিত সিরিজটির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ভারত সরকারের সবুজ সংকেত ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের ওপর।

তাসনিম হোসেন