মা ও তিন বোনকে পাশাপাশি দাফন, একা রয়ে গেলো ছেলে

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শাহীনুর বেগম ও তার তিন কন্যাকে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। জানাজা শেষে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এ সময় হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।

শুক্রবার রাতে জানাজা শেষে লটিয়া গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তারকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

পরিবারের একমাত্র জীবিত সন্তান জুনায়েদ ইসলাম শিফাত কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদারের পাশাপাশি অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

নিহত শাহীনুর বেগমের মা হাজরা বেগম ও তার শাশুড়িও একই দাবি জানিয়ে বলেন, নিরপরাধ মা ও তিন মেয়েকে হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মরদেহগুলো লটিয়া গ্রামে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে রাত ১০টার দিকে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

গত বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার গোডাউন সড়কের একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম, ইকরা ও শিফার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বড় মেয়ে সায়মাও মারা যান।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এক যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কিংবা এতে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত শাহীনুর বেগমের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে নিহত অন্তর মজুমদারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি গণপিটুনির ঘটনায় সাত পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার অভিযোগে পুলিশ পৃথক একটি মামলাও করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, সম্ভাব্য অন্য জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং গণপিটুনির ঘটনাসহ পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

 

তাসনিম হোসেন