মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে খামেনির শোকযাত্রায় হাজির আহমাদিনেজাদ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সব জল্পনা-কল্পনা ও মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে দিয়ে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঐতিহাসিক শোকযাত্রায় জনসমক্ষে হাজির হয়েছেন দেশটির সাবেক বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। সোমবার রাজধানী তেহরানে কালো জ্যাকেট ও মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় শোকাহত লাখো মানুষের ভিড়ের মধ্যে তাকে হাঁটতে দেখা গেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই নিহত হন। সে সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর রটেছিল যে, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা আহমাদিনেজাদও ওই হামলায় ‘নিহত’ হয়েছেন। তার বাড়ির কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় তিনি মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এরপর দীর্ঘ কয়েক মাস তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং সরকারিভাবেও তার ভাগ্য নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে যুদ্ধের শুরুর দিককার বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাকে ঘিরে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

খামেনির এই শোকযাত্রায় ইরানের জীবিত অন্য দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানি অনুপস্থিত ছিলেন। সমালোচকদের দাবি, তাদের এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। তবে এই দুই নেতার অনুপস্থিতির খবরের মধ্যেই অবশেষে জনসমক্ষে এসে চমক দিলেন আহমাদিনেজাদ।

শোকযাত্রায় ইরানের বর্তমান শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের অনেকেই অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য। তবে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবারও জনসমক্ষে আসেননি। বাবার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত তাকে একবারও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

এর আগে, রোববার খামেনির জানাজার নামাজে সামনের সারিতে দাঁড়িয়েছিলেন তার তিন ছেলে—মোস্তাফা, মাসউদ ও মেইসাম। বাবার মৃত্যুর পর এই প্রথম তারা জনসমক্ষে উপস্থিত হলেন এবং এ সময় তাদের অত্যন্ত আবেগাপ্লুত ও অশ্রুসিক্ত দেখা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রজুড়ে মানুষের অভূতপূর্ব ঢল নেমেছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, জানাজা ও শোকযাত্রায় প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হয়েছে। এ সময় শোকগ্রস্ত জনতা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘আমার শহীদ নেতা, আপনার পথচলা অব্যাহত থাকবে। আমার শহীদ পিতা, আপনার পথচলা অব্যাহত থাকবে।’

শোকযাত্রায় খামেনির কফিনটি ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল। একই ট্রাকে রাখা হয়েছিল হামলায় নিহত তার পরিবারের অন্য সদস্যদের কফিনও। গত শনিবার শুরু হওয়া এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। এরপর খামেনির মরদেহ তার জন্মস্থান মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে। এর আগে, ইরানের কোম এবং ইরাকের পবিত্র নাজাফ ও কারবালা শহরেও পৃথক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

তাসনিম হোসেন