মেট্রোরেল দেখে শেখ হাসিনা কেঁদেছিলেন আজ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ২৫ জুলাই ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অন্যতম এক আলোচিত ও ঘটনাবহুল দিন। দেশজুড়ে চলমান তীব্র সহিংসতা, প্রাণহানি এবং কঠোর কারফিউর মধ্যেও সেদিন রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘটেছিল নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

সেদিন সকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষতিগ্রস্ত মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেন। এ সময় ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনের নামে এই তাণ্ডব যারা চালিয়েছে, তাদের বিচার দেশবাসীকে করতে হবে। একই সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করায় পুরো দেশজুড়ে এক গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়।

টানা কঠোর কারফিউর পর ২৫ জুলাই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য তা শিথিল করা হয়। ব্যাংক ও সরকারি-বেসরকারি অফিসও কিছু সময়ের জন্য খোলা রাখার অনুমতি মেলে। তবে রাজধানী ঢাকাসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে সেনাবাহিনীর কঠোর টহল ও পুলিশের তল্লাশি অব্যাহত থাকায় জনমনে আতঙ্ক কাটেনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানে কেবল ওই দিনই প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে শুধু ঢাকাতেই ছিলেন ৬৪১ জন। এই গণগ্রেফতারের প্রতিক্রিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, প্রশাসনিক দমনপীড়ন চালিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। দমন-পীড়নের পরও সেদিন নিহতদের স্মরণে গায়েবানা জানাজা, কবর জিয়ারত ও প্রদীপ প্রজ্বালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।

বাংলাদেশের এই উত্তাল পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ঢাকাস্থ দূতাবাসের জরুরি নয় এমন কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারকে বাংলাদেশ ত্যাগের অনুমতি দেয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহিংসতার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানায়। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সব ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানান এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরাও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

আন্দোলনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাতেও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৮, ২৯ ও ৩১ জুলাই এবং ১ আগস্টের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়, যার ফলে লাখো পরীক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। সবমিলিয়ে, চব্বিশের ২৫ জুলাই একদিকে যেমন শাসকগোষ্ঠীর নিষ্ঠুরতা ও দমন-পীড়নের দিন ছিল, অন্যদিকে তা ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত বিজয়ের পথকে ত্বরান্বিত করার একটি অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে ইতিহাসে খোদাই হয়ে আছে।

তাসনিম হোসেন