ছয় মাস আগে বিয়ে, নওগাঁয় খালে গোসল করতে নেমে স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন স্ত্রীও

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় একটি খালে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে স্বামী ও স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পানিতে ডুবে যাওয়া স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রীও প্রাণ হারান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের কার্তিকাহার গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত দম্পতি হলেন মেহেরপুর জেলার বাসিন্দা নূর ইসলাম এবং তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। মাত্র ছয় মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল এবং সুমাইয়া মূলত কার্তিকাহার গ্রামেরই বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন নূর ইসলাম। এর পর দিন রোববার দুপুরে বাড়ির পাশের একটি বড় খালে এলাকার অন্য লোকজনের সঙ্গে গোসল করতে নামে সে সময় পাড়েই দাঁড়িয়ে ছিলেন তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। হঠাৎ করে নূর ইসলাম পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করলে তাকে উদ্ধারের জন্য দ্রুত পানিতে নেমে পড়েন সুমাইয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পানির গভীরতা ও স্রোতের কারণে তিনিও একপর্যায়ে নিখোঁজ হয়ে যান।

ঘটনাটি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তারা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় আধাঘণ্টার নিরলস চেষ্টার পর জলাশয় থেকে দুজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর দ্রুত তাদের বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. কাজী তাহরিমা আক্তার মুন্নি গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় লোকজন দুজনকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক দল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুহুল আমীন জানান, ইতোমধ্যে হাসপাতালেই নিহতদের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে তাদের শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা অসাবধানতা রয়েছে কি না, তাও পুলিশ গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।

তাসনিম হোসেন