স্বর্ণের পর এবার বাড়ল রুপার দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি ৪,৭৮২ টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এবার দেশের বাজারে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে সর্বোচ্চ ২৯১ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৭৮২ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে আজ সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাম বৃদ্ধির তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) সরবরাহ ও মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করে রুপার দাম পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট রুপার জন্য ক্রেতাদের গুনতে হবে ৪ হাজার ৭৮২ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের রুপার দামও আনুপাতিক হারে বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার নতুন বাজারমূল্য দাঁড়াবে ২ হাজার ৯৭৪ টাকায়।

আগের সমন্বয় ও দামের চিত্র এর আগে সবশেষ গত ৩০ জুন দেশের বাজারে রুপার দাম পুনর্নির্ধারণ বা সমন্বয় করা হয়েছিল। সেই সময়ে রুপার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ১৭৫ টাকা কমানো হয়েছিল, যার ফলে দাম দাঁড়িয়েছিল ৪ হাজার ৪৯১ টাকা। ওই সময়কার মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৭৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর হয়। তবে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সেই দামের সূচক আবারও ঊর্ধ্বমুখী হলো।

চলতি বছরের বাজার পরিস্থিতি রুপার বাজারের এই ওঠানামা নতুন কিছু নয়। তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত রেকর্ড ৫২ বার রুপার দাম সমন্বয় বা পরিবর্তন করা হলো। এর মধ্যে বাজারের চাঙ্গাভাব এবং আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে ২৬ বার রুপার দাম বাড়ানো হয়েছে, আর বাকি ২৬ বার স্থানীয় ও বৈশ্বিক চাহিদা কম থাকায় দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। ফলে চলতি বছর রুপার বাজারে এক ধরণের অস্থিরতা ও সমতা বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

তাসনিম হোসেন