স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা, যা দেশের বাজারে নতুন রেকর্ড।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোমবার সকাল ১০টা থেকে স্বর্ণের নতুন মূল্য কার্যকর করেছে। নতুন ঘোষণায় ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা। তবে স্বর্ণের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব স্বর্ণালঙ্কার বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে নির্ধারিত হবে। এছাড়া স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
এর আগে গত ২০ জুন স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেল।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৭৯ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ বার দাম বেড়েছে, ৩৮ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। গত বছর স্বর্ণের মূল্য ৯৩ দফা পরিবর্তন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস পায়।
অন্যদিকে রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
চলতি বছরে রুপার দাম ৪৭ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ বার দাম বেড়েছে এবং ২৩ বার কমেছে। ফলে মূল্য পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও অস্থিরতা বজায় রয়েছে।