বাধ্যতামূলক শ্রম প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পণ্যে ১০ শতাংশ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদও শেষ হয়েছে। নতুন শুল্ককে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত বিস্তৃত শুল্কনীতির ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত বছর জাতীয় জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সরকারি নিবন্ধনে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন শুল্কের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে। তবে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্য এ সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।
১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় নতুন এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আদালতের আগের রায়ের পরও প্রায় সব আমদানির ওপর ন্যূনতম শুল্ক বজায় রাখতে এই আইনি বিধান কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য যে অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল, তার মেয়াদ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হয়। একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তবে ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত পরিবহনরত পণ্য নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এখন বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোরও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগ মানবাধিকার সুরক্ষা এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম কমাতে সহায়ক হবে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ ১৭টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট কার্যকর শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হবে। অন্য ৩৮টি দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে চীনও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনে উইঘুর সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে পূর্ববর্তী সমঝোতা অনুযায়ী চীনা পণ্যের ওপর নির্ধারিত শুল্কহার পুনর্বহালের পরিকল্পনাও রয়েছে।