ঝালকাঠির রাজনীতিতে আলোচিত ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা সাইদুর রহমান সাঈদকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জুলাই গণহত্যা মামলার এই আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে বর্তমানে থানায় জোর তদবির চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ রবিবার (২৮ জুন ২০২৬) রাত ১টায় রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকা থেকে সাইদুর রহমান সাঈদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ৫ নম্বর সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য এবং ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
আমুর ঘনিষ্ঠতা ও স্থানীয়দের অভিযোগ ঢাকার রূপনগরের ইউনুস আলী হাওলাদারের ছেলে হলেও সাঈদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঝালকাঠি। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সাবেক মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। আমুর নির্বাচনী এলাকায় উঠান বৈঠক, মিছিল-সমাবেশ আয়োজন থেকে শুরু করে ভোটের পোস্টারিং পর্যন্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন এই সাঈদ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আমুর ছত্রছায়ায় সাঈদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিল। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই সাঈদ ঝালকাঠি ছেড়ে ঢাকায় এসে আত্মগোপনে ছিলেন।
জুলাই গণহত্যা মামলার আসামি চলতি ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া একটি জুলাই গণহত্যা মামলার ১০৯ নম্বর আসামি হলেন সাঈদ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নাম থাকা এই মামলাটির বাদী মীম আক্তার আঁখি।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) আবু বকর সিদ্দিক সাঈদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সাঈদকে সকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জুলাই হত্যাকাণ্ডের একজন এজাহারনামীয় আসামি। তবে তিনি আমির হোসেন আমুর সহযোগী কি না, সে বিষয়ে আমরা এখনও নিশ্চিত নই।”
থানায় জোর তদবিরের অভিযোগ স্থানীয় ও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করছে, সাঈদ গ্রেপ্তারের পর থেকেই যাত্রাবাড়ী থানায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু লোকজনের আনাগোনা ও তৎপরতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে থানা-পুলিশকে প্রভাবিত করে সাঈদকে মামলার দায় থেকে ছাড়ানোর বা মুক্তি দেওয়ার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আমুর আরেক সহযোগীও রয়েছেন কারাগারে সাঈদের আগে আমির হোসেন আমুর আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাওন খানকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। গত ১৩ মে গ্রেপ্তার হওয়া শাওন নলছিটি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি ফিরোজ আলম খানের ছেলে। আমুর ব্যক্তিগত সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করে শাওন অত্যন্ত অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।