মা ও তিন মেয়েকে খুনের প্রতিবাদে রায়পুরে বিশাল মানববন্ধন, তদন্তের জোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

ছবি: প্রজন্ম ২৪

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার প্রতিবাদে এবং এর পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। আজ রোববার (২৮ জুন ২০২৬) নিহতদের সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

পৌর শহরের এই বর্বরোচিত ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আজ আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সুসংগঠিত বা প্রভাবশালী চক্র সম্পৃক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তাদের ক্ষোভ ও সন্দেহ আজকের মানববন্ধনে নিহত তিন বোনের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহপাঠীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে একা একটি ঘরের ভেতরে ঢুকে চার চারজন মানুষকে এভাবে ঠাণ্ডা মাথায় গলা কেটে হত্যা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। নিহতদের পরিবারের সাথে কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল কি না কিংবা এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো সহযোগী জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটন করা জরুরি।" বক্তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে মূল পরিকল্পনাকারী বা পর্দার আড়ালে থাকা কোনো অপরাধী থাকলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

কী ঘটেছিল সেদিন? গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) সকালে রায়পুর পৌর শহরের একটি ভাড়া বাসায় এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ও রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। তাদের আদি বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা রায়পুরে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চারজনের ওপরই উপর্যুপরি হামলা চালায়। ভেতর থেকে চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাদের উদ্ধার করে দ্রুত রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা শাহিনুর বেগম ও দুই মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বড় মেয়ে সায়মা আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

অভিযুক্তের গণপিটুনিতে মৃত্যু হত্যাকাণ্ডের পরপরই রক্তাক্ত অস্ত্রসহ পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। নিহত অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা এবং রায়পুরে ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসা করতেন।

তদন্তে পুলিশ রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং জেলা পুলিশ সুপার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। প্রধান অভিযুক্ত মারা গেলেও ঘটনার মূল কারণ, কোনো গোপন শত্রুতা এবং এর সাথে অন্য কারো যোগসাজশ বা উসকানি আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তাসনিম হোসেন