মার্কিন হামলা শেষ হতেই ইরানে নতুন সিরিজ বিমান হামলা, নেপথ্যে কারা তা নিয়ে রহস্য

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৪২ এএম

ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ইরানজুড়ে নতুন করে এক সিরিজ অজ্ঞাত বিমান হামলা চালানো হয়েছে। কে বা কারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে লক্ষ্য করে এই নতুন হামলা চালাচ্ছে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। গত শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এই হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি।

বৃহস্পতিবার যখন ইরান তাদের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে এই বিমান হামলাগুলো চালানো হয়। ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থা এই হামলার জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী করেনি। তবে দেশটির এক সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে ‘নেপথ্যে থেকে’ সহায়তা করছে। চলমান সংঘাতের পর থেকে ইরানের ক্রমাগত হামলার শিকার হওয়া উপসাগরীয় আরব দেশগুলো অবশ্য এই নতুন বিমান হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও বিশ্ব জ্বালানি সংকট

যুক্তরাষ্ট্র ও আরব দেশগুলো অনড় অবস্থানে রয়েছে যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবশ্যই সবার জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে হবে। বিপরীতে ইরান দাবি করছে, এই প্রণালি এখন থেকে সম্পূর্ণ তাদের একক নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এর মধ্য দিয়ে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে তেহরানকে ফি প্রদান করতে হবে। চলমান সংঘাতের সময় এই প্রণালির ওপর ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল, যদিও তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ ১২০ ডলার থেকে এখন অনেকটাই কমে এসেছে। অন্যদিকে এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া ইসরায়েলও সাম্প্রতিক হামলার দায় স্বীকার করেনি।

মার্কিন সেন্টকমের বিবৃতি ও ইরানের পালটা আঘাত

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানে প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মধ্য দিয়ে তাদের দ্বিতীয় দফার হামলা শেষ করেছে। কিন্তু এর ঠিক পরপরই ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো বুশেহর, সিস্তান-বেলুচিস্তান, আহভাজ ও চাবাহারসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা ও বিস্ফোরণের খবর দেয়। একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে শেষ হওয়া দফার পর মার্কিন বাহিনী নতুন করে কোনও হামলা চালায়নি।

এদিকে এই হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের আক্রমণের পরিধি বাড়িয়ে বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও কাতারে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই চার দেশে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতার সাইরেন বেজে উঠলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটেন।

মধ্যস্থতার চেষ্টা ও ওমান রুট ব্যবহারের তাগিদ

ইরানি হামলার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান কুয়েতের আমিরের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। কাতার ও পাকিস্তান যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সরাসরি যুদ্ধ ঠেকাতে এবং অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি বজায় রাখতে নিবিড়ভাবে মধ্যস্থতা করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির একক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান অনড় থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্র নৌযানগুলোকে ইরানের জলসীমা এড়াতে ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর সাম্প্রতিক উসকানিমূলক হামলা সত্ত্বেও, নাবিকদের মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে প্রণালির দক্ষিণ রুটটি সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং এটি সব ধরনের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

তাসনিম হোসেন