ভিএআর সিদ্ধান্তে লাল কার্ড, বিতর্কের আরেক নাম এখন আর্জেন্টিনার ম্যাচ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪১ পিএম

ভিডিও সহকারী রেফারির হস্তক্ষেপে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো। এরপর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ঘটে বহুল আলোচিত সেই ঘটনা। প্রথমে আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠের খেলোয়াড় লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউলের দায়ে হলুদ কার্ড দেখান ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তা। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির মাধ্যমে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনা করা হলে দেখা যায়, পারেদেসের সংস্পর্শে আসার আগেই ব্রিল এমবোলো মাটিতে পড়ে যান।

এরপর আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এমবোলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাউলের অভিনয় করার দায়ে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এটি ছিল ম্যাচে তাঁর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। ফলে নিয়ম অনুযায়ী লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইজারল্যান্ডের এই ফরোয়ার্ডকে।

মাঠ ছাড়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এমবোলো। সাইডলাইনে যাওয়ার পর সতীর্থরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এর কিছুক্ষণ আগেই ড্যান এনডয়ের গোলে ম্যাচে ১-১ সমতা ফিরিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। তবে এমবোলোর বিদায়ের পর খেলার চিত্র বদলে যায়। অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ আরও দুটি গোল করে আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচ শেষে ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নিকো এলভেদি। তিনি বলেন, এমন সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে, তা তাঁর বোধগম্য নয়।

জানা গেছে, চলতি বিশ্বকাপে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ভিডিও সহকারী রেফারির মাধ্যমে ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংশোধনের নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী, ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হলে ভিডিও সহকারী রেফারি হস্তক্ষেপ করে সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ পান।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গত ছয় দশকে ফাউলের অভিনয়ের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ঘটনা এটি চতুর্থ। এর আগে ২০০২ সালে ইতালির ফ্রান্সেসকো টট্টি এবং ২০০৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর লুইস পেরেজ ও ঘানার আসামোয়া জিয়ান একই কারণে লাল কার্ড দেখেছিলেন।

তাসনিম হোসেন