কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ হামলা, সামরিক ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ০২:১৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার পারদ আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিয়ে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চালানো এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর উন্নত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, ড্রোন হ্যাঙ্গার ও সর্বাধুনিক রাডার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েতের মাটি ব্যবহার করা মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানে আইআরজিসির এলিট ফোর্সের সদস্যরা।

আইআরজিসির প্রথম বিবৃতিতে জানানো হয়, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর একটি দূরপাল্লার রাডার সেন্টার, গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট সিগন্যাল গ্রহণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডারে সফলভাবে হামলা সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে দেশটির বিখ্যাত ‘আলি আল-সালেম’ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত একটি 'এমকিউ-৯' ড্রোনের মূল হ্যাঙ্গারে আঘাত হানা হয়, যার ফলে সেখানে প্রস্তুত থাকা বেশ কয়েকটি আধুনিক সামরিক ড্রোন একযোগে দুমড়েমুচড়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

প্রথম হামলার পরপরই তড়িঘড়ি করে দ্বিতীয় আরেকটি যৌথ বিবৃতি দেয় আইআরজিসি। তারা স্পষ্ট করে জানায়, মার্কিন বাহিনীর ‘আহমেদ আল-জাবের’ ঘাঁটিতে অবস্থিত আগাম সতর্কীকরণ বিশেষ রাডার, এফপিএস-১১৭ রাডার, সর্বাধুনিক প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোই ছিল তাদের মূল নিশানায়। মূলত ভবিষ্যতে ইরানের পক্ষ থেকে আরও বড় ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন অভিযান পরিচালনার আগে সংশ্লিষ্ট পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও পাল্টা প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অকেজো ও দুর্বল করে দেওয়াই ছিল এই নিখুঁত অপারেশনের মূল উদ্দেশ্য।

আইআরজিসির পর পৃথক একটি বার্তা দিয়ে সমান্তরাল অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছে মূল ইরানি সেনাবাহিনীও। তারা জানায়, কুয়েতে থাকা মার্কিন বাহিনীর তিনটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর কৌশলগত অবস্থান চিহ্নিত করে আত্মঘাতী বা ‘কামিকাজে ড্রোন’ দিয়ে এই আঘাত হানা হয়। এই জোড়া হামলায় ক্যাম্প আরিফজানের মূল প্রশাসনিক ভবন ও নেভিগেশনাল অ্যান্টেনা, ক্যাম্প আল-আদিরির সামরিক হেলিকপ্টার পার্কিং জোন এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির মার্কিন সেনা আবাসন ব্যবস্থা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশ্ববাসীকে জানানো হয়েছে যে, এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি ও উসকানিমূলক তৎপরতার কারণেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অঞ্চলটিতে নিজস্ব শক্তিমত্তা জানান দিতেই এসব পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে তেহরান। তবে ইরানি বাহিনীর দেওয়া এই বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির বিশাল দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) কিংবা কুয়েত সরকার ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

তাসনিম হোসেন