ইরান সংঘাত: ১০০ মার্কিন সেনা আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ পেন্টাগনের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ০২:২০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে প্রায় একশত মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন)। তবে তথ্য গোপনের অভিযোগের মুখে সেনা সুরক্ষার অজুহাত দিয়ে পেন্টাগন জানিয়েছে, আহতদের সিংহভাগই ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে পুনরায় নিজ নিজ কর্মস্থলে ও দায়িত্বে ফিরে গেছেন।

সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল নিশ্চিত করেন যে, গত ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা সদস্য কোনো না কোনোভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা আহত হয়েছেন। তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশ সদস্যই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যেই তাঁদের স্ব-স্ব অর্পিত দায়িত্বে ফেরত গেছেন। জখম হওয়া সেনা সদস্যদের বড় একটি অংশই মূলত মৃদু 'কনকাশন' বা মাথায় সাময়িক আঘাতজনিত মস্তিষ্কের সমস্যায় ভুগেছিলেন।

পেন্টাগনের এই হঠাৎ তথ্য প্রকাশের পেছনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস'-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের বড় ভূমিকা রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, ইরানের সাথে যুদ্ধ চলাকালে আহত হওয়া বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনার সঠিক পরিসংখ্যান ও তথ্য সচেতনভাবেই গোপন করে রেখেছে ওয়াশিংটন। একই সময়ে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়, সেনাদের হতাহত হওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে চরম ধীরগতির নীতি অবলম্বন করছে দেশটির প্রতিরক্ষা দফতর।

এসব সমালোচনার জবাবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল যুক্তি দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে দায়িত্বরত মার্কিন সেনাদের জীবন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই কৌশলগত কারণে এই তথ্য প্রকাশে বিলম্ব করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রাণঘাতী নয় এমন আঘাতের তথ্য সাথে সাথে গণমাধ্যমে উন্মুক্ত করে দেওয়া মানে পরোক্ষভাবে প্রতিপক্ষ বা শত্রুপক্ষের হাতেই সেই স্পর্শকাতর তথ্য তুলে দেওয়া, যা কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে সামরিক বাহিনীর আরও সদস্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলার সুযোগ তৈরি হতে পারত।

পার্নেল আরও দাবি করেন, ইরানে পরিচালিত সামরিক হামলা ও পদক্ষেপ সংক্রান্ত প্রতিটি বিষয়ের নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য দিয়ে আসছে পেন্টাগন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বিশ্ববাসীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরছেন।

বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর সামরিক হতাহতের অফিসিয়াল তথ্যভাণ্ডার হিসেবে 'ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম' (ডিসিএএস) ব্যবহৃত হচ্ছে। সিএনএনের মতে, চিকিৎসাগত মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার জটিল নিয়মের কারণে এই তথ্যভাণ্ডারে মৃত্যুর তথ্য ও জখমের তথ্য যুক্ত হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় গড়িয়ে যায়।

ডিসিএএসের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে দুই দেশের সমঝোতা চুক্তি সত্ত্বেও সম্প্রতি নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার চালক কমান্ডার গ্যাব্রিয়েল এডওয়ার্ডস নামে এক অফিসারের মৃত্যুর তথ্য যুক্ত করা হয়েছিল, যিনি ১ জুলাই আরব সাগরে নিখোঁজ হওয়ার পর নিহত হিসেবে নিশ্চিত হন। এরপর ২০ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ ডাটাবেজ হালনাগাদে নতুন করে আরও চার সেনার মৃত্যু এবং অতিরিক্ত ২০ জন সেনা আহত হওয়ার চূড়ান্ত তথ্য তালিকাভুক্ত করে পেন্টাগন।

তাসনিম হোসেন