পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে দূর প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিণতিতে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরেছে। কফিনবন্দি মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে কানাইঘাটসহ পুরো সিলেটজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
গত ৩০ জুন মঙ্গলবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় কাতারে নিহত পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ। তাদের মরদেহ দেশে আনা হয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে।
নিহতরা সবাই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন কাদির আহমদ (৩৩), জিবাল আহমদ (৩৫), জসিম উদ্দিন (৩৮), মস্তাক আহমদ (২৭) ও জুবের আহমদ (২৮)।
বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এক শিশুসন্তান তার বাবার কফিনের পাশে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকে, অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার আগ পর্যন্ত সেখান থেকে সরেনি। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পাঁচটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে মরদেহগুলো কানাইঘাটে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
বাড়িতে মরদেহ পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো প্রিয়জনদের দেখে বারবার মূর্ছা যান। অনেকেই শেষ বিদায় জানাতে ভিড় করেন বাড়িগুলোতে।
পরে বাদ জোহর কানাইঘাটের গাছবাড়ি জামিউল উলুম কামিল মাদরাসায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে মরদেহগুলো নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তারা নিহত হন। দ্রুতগতির একটি যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের বহনকারী গাড়িকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই পাঁচ বাংলাদেশি এবং গাড়ির চালক নিহত হন।
পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ শাখার মাধ্যমে মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।