শীঘ্রই মাদক প্রতিরোধে আসছে নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ বিচারিক ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অবৈধ মাদক পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, বিদ্যমান বিচারব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বিচারিক পরিষদ গঠন করা হবে। তবে কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, সমাজজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি করেও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকের বিস্তারের কারণে দেশে অপরাধের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদক গ্রহণ করে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত নয়টি মামলা দায়ের করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে নথি পাওয়ার পর এখন পর্যন্ত সেখানকার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের কাছে কোনো সিদ্ধান্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপের তথ্য জানায়নি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওসমান হাদি হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত এবং বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভারত সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সাম্প্রতিক চেষ্টা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটতে পারেনি।

তিনি বলেন, ভারত যেভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে, তা কোনো বৈধ বা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নয়। যদি ভারতে অবৈধভাবে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করে থাকেন, তাহলে তাদের তালিকা যথাযথ কূটনৈতিক মাধ্যমে বাংলাদেশকে জানাতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কূটনৈতিক পথে তালিকা পাওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যথাযথভাবে যাচাই করবে। যাচাই শেষে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তাসনিম হোসেন