২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি চালু হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকায় ২০২৭ সালে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। তবে ২০২৮ সাল থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একাধিক নতুন উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। এজন্য ২০২৭ সালে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। তবে ২০২৮ সাল থেকে তা সারাদেশে পুরোপুরি কার্যকর করা হবে।

কোচিং নির্ভরতা কমাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ঘাটতির কারণেই অনেক শিক্ষার্থী কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এ সমস্যা কমাতে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অনুমোদনহীন কোচিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ম-কানুনের আওতায় আনার কাজ চলছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে ১৯৮০ সালের সরকারি পরীক্ষা-সংক্রান্ত আইন সংশোধন করা হয়েছে। নতুন বিধানে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের পর তা আর যাচাই করা হবে না—এমন সুযোগ আর থাকবে না। অতীতে নম্বর পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা বোর্ড থেকে বাছাই করা উত্তরপত্র পুনরায় পরীক্ষা করে দেখা হবে, যাতে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়ার মতো অনিয়ম শনাক্ত করা যায়। কোনো পরীক্ষকের বিরুদ্ধে গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, উত্তরপত্র মূল্যায়নের মান উন্নত করতে এবার পরীক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে একজন পরীক্ষকের ওপর উত্তরপত্র মূল্যায়নের চাপও কমিয়ে আনা হয়েছে।

আইন সংশোধনের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত অসদাচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। শিক্ষক কিংবা পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা এসব অপরাধে জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। প্রশ্নফাঁসের যেকোনো আশঙ্কা মোকাবিলায় তিনটি পৃথক প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় দেহে ধারণযোগ্য চিত্রগ্রহণ যন্ত্র ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তাসনিম হোসেন