তিন মাসব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের উদ্বোধন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের ৭ম ব্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৬৪ জেলায় একযোগে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম চলছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৩৬ হাজার শিক্ষিত যুব-যুবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড’।

আজ (১ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া ৩ মাসব্যাপী এই ৭ম ব্যাচের প্রশিক্ষণে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস তরুণ-তরুণীরা জেলাভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের ব্যাচে ভর্তির জন্য লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়েছিল।

৬ ব্যাচেই আয় ৩৪ কোটি টাকা

প্রকল্প সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া পূর্ববর্তী ছয়টি ব্যাচে ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ১১ হাজার ৩৫৩ জন বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে সফলভাবে কাজ করছেন। এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মোট আয়ের পরিমাণ ১৯ লাখ ৯৯ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা), যা অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতসহ সর্বমোট ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের আয় যেন আরও বৃদ্ধি পায়, সেজন্য প্রতিটি জেলায় বিশেষ ‘মেন্টরিং ক্লাস’-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

৬০০ ঘণ্টার নিবিড় প্রশিক্ষণ ও ভাতা

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক তার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, "ডিজিটাল অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার। এই প্রশিক্ষণ বেকারত্ব হ্রাস করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।" অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীরা প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে তিন মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা ক্লাস করবেন। এখানে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং ও বেসিক ইংরেজির মতো চাহিদাসম্পন্ন বিষয় শেখানো হবে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান এবং ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম। প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং কোর্স শেষে তাদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

তাসনিম হোসেন