লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পরীক্ষা গ্রহণ সহজ করতে বিশেষ ‘হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল থেকে রায়পুর সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনে এই স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছাত্রশিবিরের স্থাপন করা হেল্প ডেস্ক থেকে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ভালো মানের কলম, বিশুদ্ধ খাবার পানি, মাস্ক, টিস্যু এবং ওআরএস স্যালাইনসহ পরীক্ষা কেন্দ্রে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। চলমান প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পরীক্ষার প্রথম দিনের মানসিক চাপের মধ্যে ছাত্রশিবিরের এমন ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী উদ্যোগে সাধারণ পরীক্ষার্থী ও তাদের সাথে আসা অভিভাবকদের মাঝে বেশ স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।
পূর্ববর্তী প্রস্তুতি ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই পরীক্ষার্থীদের সার্বিক সাফল্য ও শুভকামনা জানিয়ে একটি বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল রায়পুর উপজেলা ছাত্রশিবির। ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০০ জন কৃতি শিক্ষার্থীর মাঝে পরীক্ষার রুটিন, স্বচ্ছ ফাইল, জ্যামিতিক স্কেল ও কলমসহ পরীক্ষা হলে প্রবেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ অগ্রিম বিতরণ করা হয়েছিল।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আরমান হোসেন বলেন, "পরীক্ষার্থীদের যেকোনো সংকটে পাশে দাঁড়ানো আমাদের একটি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পাবলিক পরীক্ষায় বসার মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের মানসিক কষ্ট লাঘব করতে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথকে কিছুটা সহজ করতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। রায়পুর উপজেলার অন্যান্য পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনেও আমাদের এই মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।"
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
হেল্প ডেস্কের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে পরীক্ষা দিতে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, "পরীক্ষার দিন এমনিতেই আমরা অনেক মানসিক ও স্নায়ুবিক চাপের মধ্যে থাকি। কেন্দ্রে আসার পর হঠাৎ কলম নষ্ট হওয়া, ফাইল ভুলে বাসায় ফেলে আসা বা অতিরিক্ত গরমে পানির পিপাসা পাওয়ার মতো নানা অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যায় পড়তে হয়। এমন সময়ে শিবিরের ভাইদের হাত থেকে পানি, কলম ও স্যালাইন পেয়ে আমরা দারুণভাবে উপকৃত হয়েছি। এই উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।"
এদিকে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ কয়েকজন অভিভাবকও এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা জানান, তীব্র গরম ও ভিড়ের মধ্যে কেন্দ্রের বাইরে বসার বা পানির কোনো ভালো ব্যবস্থা থাকে না। ছাত্রশিবিরের কর্মীরা যেভাবে পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং পানি-স্যালাইন সরবরাহ করছেন, তা অত্যন্ত চমৎকার একটি দৃষ্টান্ত।
জেলা ও উপজেলা শিবিরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সরাসরি উপস্থিতিতে রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে দিনব্যাপী এই সচেতনতামূলক, স্বাস্থ্যবিষয়ক ও সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
—আব্দুল আহাদ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি।