ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত সব ধরনের রোগ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অনলাইনভিত্তিক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা আরও জোরদার করার ওপর তাগিদ দেন তিনি।
রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘ইম্প্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিস প্রজেক্ট’ (আইইউপিএইচপিএসপি) আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকার ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করেছে, যা বেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কমিটির প্রথম সভাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, "প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার পরও অসচেতনতার কারণে বিভিন্ন স্থানে মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের নিজস্ব সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিরোধমূলক আচরণ তৈরি করতে আমাদের অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার পরিধি আরও বাড়াতে হবে।"
আইইউপিএইচপিএসপি প্রকল্পের লক্ষ্য সেমিনারে বক্তারা জানান, আইইউপিএইচপিএসপি হলো বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত একটি বিশেষ জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্প। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশের শহরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা। বিশেষ করে নগর এলাকায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মৌসুমী রোগ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির পাশাপাশি এই প্রকল্পটিও মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী লক্ষ্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তিনি একটি পরিচ্ছন্ন নগরী ও সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বকে ধারণ করে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
সেমিনারে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ উক্ত কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান (এনডিসি), এবং আইইউপিএইচপিএসপি-এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খানসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।