ময়মনসিংহ নগরীর কাচিঝুলী এলাকায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র চার ঘণ্টা আগে একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে তিশা সরকার (১৮) নামে এক পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে নগরীর কাচিঝুলী মসজিদ রোড এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত তিশা সরকার ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী মিন্টু কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা মধ্য বাজার এলাকার বাসিন্দা উত্তম সরকার ও মনি সরকারের সন্তান। পড়াশোনার সুবিধার্থে গত দুই বছর ধরে তিশা কাচিঝুলী মসজিদ রোডের ২/ক/৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত ‘নাসা টাওয়ার’ নামের একটি ছয় তলা ভবনের ছাত্রী মেসে বসবাস করছিলেন।
ভোরের আলোয় মর্মান্তিক পরিণতি
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টা থেকে দেশব্যাপী একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক ৪ ঘণ্টা আগে ভোর ৬টার দিকে তিশা মেসের ওই ৬ তলা ভবনের ছাদে যান এবং সেখান থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ সকালের দিকে মেসের অন্য ছাত্রীরা ঘুমিয়ে থাকায় ঘটনার সুনির্দিষ্ট মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল বা তিশা কেন ছাদে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে সহপাঠীরা তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই জানাতে পারেননি।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে হাসপাতাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম বলেন, "প্রাথমিক আলামত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটি বহুতল ভবনের ছয় তলার ছাদ থেকে স্বেচ্ছায় লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। আজ থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো তীব্র মানসিক চাপ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে—তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে এবং এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলাসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"