২০২৭ সালের এপ্রিলে চালু হচ্ছে কমলাপুর মেট্রোরেল

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১৩ এএম

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের বর্ধিত অংশে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-৬) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওহাব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রকল্প পরিচালক জানান, ২০২৭ সালের এপ্রিলে চূড়ান্ত যাত্রীসেবা শুরু করার আগে, আগামী বছরের (২০২৫ সালের) জানুয়ারি মাস থেকে খালি ট্রেন চালিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বা ট্রায়াল রান শুরু করা হবে। নিয়মিত যাত্রীসেবার সময় শেষ হওয়ার পর রাতের বেলা উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পুরো রুটজুড়ে এই পরীক্ষামূলক চলাচল পরিচালনা করবেন কর্মকর্তারা। এটি দেশের প্রথম মেট্রোরেল রুট, যা 'লাইন-৬' নামে পরিচিত।

প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে ১.১৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, একটি স্টেশন ও রেল ট্র্যাক নির্মাণসহ পুরো সম্প্রসারণ কাজের প্রায় ৭৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে স্টেশনের স্থাপত্যশৈলী এবং প্রবেশ ও বাহির পথের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যেই কমলাপুর স্টেশনের সমস্ত পাইল, পাইল ক্যাপ, পিয়ার, স্টেশন কলাম, প্রিকাস্ট, কনকোর্স ছাদ, প্ল্যাটফর্ম স্ল্যাব, ট্র্যাক স্ল্যাব, প্যারাপেট ওয়াল এবং স্টিলের ছাদ তৈরির কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে।

তথ্যমতে, কমলাপুর স্টেশনের জন্য প্রয়োজনীয় স্বয়ংক্রিয় দরজা (স্ক্রিন ডোর), সিগন্যালিং সিস্টেম এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি শিগগিরই স্থাপনের জন্য প্রকল্প এলাকায় আনা হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে রেল ট্র্যাক বা লাইন স্থাপনের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হবে বলে আশা করছেন প্রকৌশলীরা।

বর্তমানে স্টেশনের প্রবেশ ও বাহির পথ তৈরি, অভ্যন্তরীণ দেয়ালের টাইলস লাগানো, স্থায়ী জানালার গ্লাস স্থাপন এবং ভেতরের ও বাইরের অংশের রঙের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া উত্তরা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ২৯৮টি প্রিকাস্ট সেগমেন্টের মধ্যে ১০০টি প্রিকাস্ট সেগমেন্ট কাস্টিংয়ের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত এই লাইন-৬ এর মোট দৈর্ঘ্য ২১.২৬ কিলোমিটার। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে উত্তরা থেকে মতিঝিল অংশ পর্যন্ত মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক চলাচল সফলভাবে শুরু হয়েছিল। এবার কমলাপুর অংশ চালু হলে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় আরও বড় স্বস্তি আসবে।

তাসনিম হোসেন