প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৪১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো তথ্যকে অপপ্রচার বলে দাবি করা হয়েছে। বগুড়া-২ আসনের এই সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) এড়াতে পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে লিখিতভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং তার সকল সম্পদের বিবরণ নির্বাচনী হলফনামায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে বলে তথ্য সামনে

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ সম্পত্তি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী মীর পরিবারের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল এবং মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কিছু কৃষি ও বাণিজ্যিক খামার।

একটি গণমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হলফনামার ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ সম্পত্তির জায়গায় মাত্র ৩১ শতাংশ সম্পত্তির তথ্য উল্লেখ করে নতুন সমালোচনার জন্ম দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান জানান, মীর শাহে আলম শপথ নেওয়ার পর সরকারি বিধি মেনে স্বার্থের সংঘাত এড়াতে পারিবারিক ব্যবসা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নেন এবং যাবতীয় দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি ক্রয়ের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে জানান তিনি। জমিটি মূলত ‘রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড’-এর নামে কেনা হয়েছে এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এর আগে, ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে গত ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন ‘রোমা অটোরাইস মিলটি’ ৪২ কোটি টাকায় মোকামতলার ব্যবসায়ী রবিউল আলমের কাছে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিবগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, মীর শাহে আলম বহু বছর ধরেই এ অঞ্চলের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ব্যবসার মালিকানা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। একটি মহল প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্যই এমন অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়েছে।

একই সুর মিলিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম চটকদার ও নেতিবাচক হলেও ভেতরের সারাংশে পূর্ণাঙ্গ কোনো তথ্য-উপাত্ত বা সামঞ্জস্য ছিল না।

তাসনিম হোসেন