আরবি নববর্ষ ১৪৪৮ হিজরির সূচনায় পবিত্র কাবা শরিফে নতুন গিলাফ স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার রাতে এশার নামাজের পর মসজিদুল হারামে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন গিলাফ উন্মোচন করা হয়। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী একসময় হজ মৌসুমে কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিজরি নববর্ষের শুরুতে তা পরিবর্তনের রীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও পুরোনো গিলাফ অপসারণ করে নতুন গিলাফ স্থাপন করা হয়েছে।
নতুন গিলাফ স্থাপনের এ আয়োজন দেখতে মসজিদুল হারামে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। অনেকেই ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে দূর-দূরান্ত থেকে সেখানে উপস্থিত হন।
কাবা শরিফের গিলাফ সৌদি আরবের আল জৌদ এলাকায় অবস্থিত বিশেষ কারিগরি কমপ্লেক্সে প্রস্তুত করা হয়। প্রায় ১১ মাস ধরে শতাধিক দক্ষ কারিগরের নিরলস পরিশ্রমে এটি তৈরি করা হয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে সাতটি পৃথক ধাপ অনুসরণ করা হয়।
নতুন গিলাফ তৈরিতে ৪৭ খণ্ড উন্নতমানের রেশমি কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। এতে পবিত্র কোরআনের ৬৮টি আয়াত স্বর্ণ ও রৌপ্যের সূতায় নান্দনিকভাবে খচিত করা হয়েছে। অলঙ্করণে ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ১২০ কেজি খাঁটি স্বর্ণ এবং ১০০ কেজি রৌপ্য। পুরো গিলাফের ওজন প্রায় ১ হাজার ৪১৫ কিলোগ্রাম।
গিলাফ পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতায় সৌদি রাজপরিবারের প্রতিনিধি এবং মসজিদুল হারামের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে নতুন গিলাফ কাবা শরিফের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
প্রথা অনুযায়ী, অপসারিত পুরোনো গিলাফ সংরক্ষণের পর ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করা হয়। পরে সেগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের স্মারক হিসেবে উপহার দেওয়া হয়।