ইসলামী ইতিহাসে অলৌকিক ও তাৎপর্যপূর্ণ নানা ঘটনার সাক্ষী পবিত্র আশুরা (১০ মহররম) আজ। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে দিনটি একাধারে সৃষ্টিজগতের সূচনা, আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভ এবং একই সাথে চরম শোক ও ত্যাগের প্রতীক।
ইসলামী বিশ্বাস ও বর্ণনা অনুযায়ী, এই ১০ মহররমের দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এই দিনেই পৃথিবী ধ্বংস বা কিয়ামত সংঘটিত হবে। এছাড়া মানব ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এই দিনে ঘটেছে:
-
হযরত আদম (আ.): এই দিনে প্রথম মানব হযরত আদম (আ.)-এর তাওবা কবুল করা হয়েছিল।
-
হযরত নূহ (আ.): নূহ (আ.)-এর মহাপ্লাবনের পর তাঁর কিশতি (নৌকা) জুদি পাহাড়ে এসে স্থির হয়েছিল।
-
হযরত ইব্রাহিম (আ.): নমরুদের প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ড থেকে তিনি অলৌকিকভাবে মুক্তি পেয়েছিলেন।
-
হযরত মূসা (আ.)-এর মুক্তি: আশুরার সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক ঘটনা হলো, এই দিনে বনী ইসরাইলদের নিয়ে হযরত মূসা (আ.) লোহিত সাগর পার হয়ে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি পান এবং অহংকারী ফেরাউন সসৈন্যে সাগরে ডুবে মারা যায়। এই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ইহুদি ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ই এই দিনে রোজা পালন করে থাকে।
কারবালার ইতিহাস: সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ
আশুরার আদি ইতিহাসের সাথে পরবর্তীতে যুক্ত হয় হিজরি ৬১ সনের (৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ) এক চরম হৃদয়বিদারক ঘটনা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) তৎকালীন উমাইয়া শাসক ইয়াজিদের অন্যায়, স্বৈরাচার ও ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন।
ইয়াজিদ বাহিনীর আনুগত্য স্বীকার না করায় ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর পরিবারকে ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে অবরুদ্ধ করা হয়। তীব্র পানির তৃষ্ণায় কাতর থাকা সত্ত্বেও তারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। অবশেষে ১০ মহররম ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে ইমাম হোসেন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের ৭২ জন সদস্য নির্মমভাবে শহীদ হন।
কারবালার এই ঘটনা আশুরাকে মুসলমানদের কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এক চিরন্তন প্রতীকে পরিণত করেছে। তাই প্রতিবছর ১০ মহররম মুসলিম বিশ্ব শুধু শোক প্রকাশের জন্য নয়, বরং কারবালার শিক্ষা বুকে ধারণ করে সত্যের পথে চলার নতুন শপথ নিয়ে দিনটি পালন করে।