প্রান্তিক কৃষকদের জন্য দুই হাজার সৌরচালিত ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণ করবে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আগামী দুই বছরের মধ্যে সারা দেশে দুই হাজার সৌরচালিত ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের মাঠের কাছেই সংরক্ষণ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর বনানীতে কৃষি খাত নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। অনুষ্ঠানে কৃষি উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা নিয়ে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বড় হিমাগারগুলো কৃষকদের উৎপাদনক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে হওয়ায় প্রান্তিক চাষিরা সেগুলোর সুবিধা পুরোপুরি নিতে পারেন না। এ কারণে কৃষকের বাড়ি বা কৃষিজমির কাছাকাছি ছোট আকারের হিমাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রতিটি হিমাগার সৌরশক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং স্থানীয় ২০ জন কৃষককে নিয়ে গঠিত একটি কমিটি এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যয় কমবে এবং ফসল নষ্ট হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

অনুষ্ঠানে কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলা হয়, গত এক দশকে কৃষি উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। এ অবস্থায় কৃষি গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কৃষিমন্ত্রী জানান, সরকার পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে। পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত নলকূপগুলো ধীরে ধীরে সৌরশক্তিনির্ভর করা হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যায়।

তিনি আরও বলেন, মাটির অম্লতার ভারসাম্য উন্নত করার মাধ্যমে রাসায়নিক সারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসছে এবং মানুষের মধ্যে ফল, শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে। এ বাস্তবতায় কৃষিকে আরও বহুমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং রপ্তানিমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তাসনিম হোসেন