নামাজের ইমামতি রেখে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুর আদালতের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি গোলাম আজম (৪৫) পালিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর পুনরায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ জানায়, আটকের পর নামাজ আদায়ের সুযোগ নিয়ে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার বাসা থেকে তাকে পুনরায় আটক করা হয়।

আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করার পর আসরের নামাজের সময় হয়ে যায়, পরবর্তীতে আসামি পুলিশ সদস্যকে রিকুয়েস্ট করে আমাকে নামাজ পড়ার সুযোগ করে দেন, আমি নামাজ পড়বো তারপর আমাকে নিয়ে যান, নামাজের কথা শোনায় তাকে নামাজ পড়ার সুযোগ দেয়, এবং আসামী গোলাম আযম তার সকল অফিসের স্টাফদের নিয়ে নিজের ইমামতিতে নামাজ শুরু করেন, আসামি গোলাম আযম, নামাজে দাড়িয়ে এক রাকাত নামাজ পড়ে তারপর দ্বিতীয় রাকাত নামাজ এর সিজদা দিয়ে সিজদা থেকে উঠে পিছনে মুসল্লিদের রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পল্টন থানার ওসি এবং ডিসিকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে আসামি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পালিয়ে গেছে, আমরা আসামি ধরার জন্য চেষ্টা করছি খুব শিগ্রই দ্বারা পড়বে,

পরবর্তীতে আজ ১৭ই জুন রোজ বুধবার সকাল 8 ঘটিকায় পুলিশ প্রযুক্তির ব্যবহার করে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করে।

আসামীর বিষয়ে যা জানা যায় তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ম্যানপাওয়ার বিজনেস এর সাথে জড়িত তার নামে একাধিক মানব পাচার মামলা ছিল পূর্বে, তিনি বিএনপির বড় নেতা হিসেবে পরিচয় প্রদান করেন অথচ বিএনপি থেকে তিনি বহিষ্কৃত নেই কোন পদ, facebook এবং whatsapp এর প্রোফাইল পিকচারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি লাগিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় জাহির করে,
চাঁদপুর আদালতের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি গোলাম আজম গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঁদপুর আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি গোলাম আজম (৪৫) অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি ঢাকার পুরানা পল্টনে অবস্থিত রিকাব ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন মিজি বাদী হয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন, ২০১৩-এর ৩১(ক), ৩১(খ), ৩১(ঘ), ৩৩ ও ৩৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গ্রহণের পর আদালত আসামি গোলাম আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়ার পর গত ১৫ জুন সোমবার পল্টন থানা পুলিশের একটি দল পুরানা পল্টনের ৫৫/১ ইসলাম এস্টেটের পঞ্চম তলায় অবস্থিত রিকাব ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ গোলাম আজমকে আটক করে।

অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর আসরের নামাজের সময় হলে গোলাম আজম পুলিশ সদস্যদের কাছে নামাজ আদায়ের সুযোগ চান। মানবিক কারণে পুলিশ তাকে সেই সুযোগ দেয়। পরে তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে নিজেই ইমামতি করে জামাতে নামাজ শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, প্রথম রাকাত সম্পন্ন করার পর দ্বিতীয় রাকাতের সিজদা থেকে উঠে হঠাৎ করেই তিনি পেছনে থাকা মুসল্লিদের রেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন এবং পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে পল্টন থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আসামি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করে।

পরবর্তীতে আজ ১৭ই জুন বুধবার সকাল ৮ ঘটিকায় গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে পুলিশ তাকে মাদারটেক, নন্দীপাড়া ঢাকার বাসা থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, গোলাম আজম দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানি ও ম্যানপাওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে অতীতেও মানবপাচার-সংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগ ছিল বলে জানা যায়। এছাড়া তিনি নিজেকে বিএনপি'র বড় রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সূত্রে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই এবং বিগত অনেক বছর যাবত তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত বলে দাবি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তাসনিম হোসেন