ঢাকার রাস্তায় রুটে রুটে চলবে কোম্পানির বাস, সরছে ৪ টার্মিনাল: সেতুমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রতিটি রুটে মালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে আগামী আড়াই বছরের মধ্যে ঢাকার প্রধান চারটি বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে বিএসআরএফ সংলাপে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রুটভিত্তিক বাস কোম্পানি ও আধুনিকায়ন

সেতুমন্ত্রী জানান, ঢাকার রাস্তায় বাসের নৈরাজ্য দূর করে শৃঙ্খলা আনতে সরকার জোরেশোরে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট রুটে চলাচলকারী বাসমালিকদের নিয়ে একটি করে কোম্পানি গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, "ঢাকার রাস্তায় একই রং, নির্দিষ্ট মান ও ফিটনেস বজায় রেখে সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করে তবেই বাস চালাতে হবে।" এ ক্ষেত্রে সরকার পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যান (ইভি) নামানোর ক্ষেত্রেও উৎসাহিত করছে এবং এ কাজ এরই মধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শহরের বাইরে যাচ্ছে ৪ বাস টার্মিনাল

ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেওয়ার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকা শহর থেকে চারটি বাস টার্মিনাল সরিয়ে নিতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগতে পারে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী টার্মিনালগুলো যেসব জায়গায় স্থানান্তরিত হবে:

  • গাবতলী বাস টার্মিনাল চলে যাবে সাভারের হেমায়েতপুরে।

  • মহাখালী বাস টার্মিনাল যাবে উত্তরার আবদুল্লাহপুরের কাছাকাছি জায়গায়। সেখানে এরই মধ্যে ৫০ বিঘা জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

  • সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল স্থানান্তর হবে কাঁচপুরে।

  • ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল চলে যাবে কেরানীগঞ্জে।

বাস কাউন্টার ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি

ঢাকার বাস কাউন্টারগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনার কাজ চলছে বলেও জানান শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, কলাবাগান, কল্যাণপুরসহ যেসব জায়গায় বাস কাউন্টারকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী টার্মিনালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাদের পর্যায়ক্রমে সেগুলো সরিয়ে নিতে হবে। কাউন্টারের সামনে বাস এনে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না এবং সরকার শিগগিরই এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

পদ্মা রেল লিংকের মাটি অপসারণ ও নতুন বগি ক্রয়

সংলাপে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা রেল লিংক সেতুর মাটি সরানোর বিষয়ে ওঠা অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, এই মাটি সরানো নির্মাণকাজেরই একটি স্বাভাবিক অংশ। কোনো গোষ্ঠী মাটি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।

মন্ত্রী বলেন, "ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি ছিল মাটি সরাবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেটি হয়নি। ওই মাটি এখন সরানো হচ্ছে। এর ফলে মূল স্থাপনা কোনোভাবেই ঝুঁকিতে পড়বে না।"

এছাড়া রেলওয়ের আধুনিকায়নের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আগামী মাসেই রেলওয়ের জন্য ১৫০টি আধুনিক বগি কিনতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী রেলের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সব প্রকল্পে সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তাসনিম হোসেন