রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মো. আবু জুবায়ের নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জুবায়ের রাজধানীর মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং একজন পরিচিত সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার ও বিতার্কিক ছিলেন। তার এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত আবু জুবায়ের বীরগঞ্জের মোহনপুর ইউনিয়নের ভুল্লিরহাট এলাকার বাসিন্দা এবং ২০১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহত সালাউদ্দিনের ছোট ভাই। ঢাকায় তিনি মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় খালার বাসায় থেকে লেখাপড়া করতেন।
নিহতের চাচাতো ভাই আবিদ দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, সোমবার রাতে জুবায়ের আরও দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রিকশাযোগে এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদের রিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশায় থাকা অন্য দুইজন সামান্য আহত হলেও জুবায়ের গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেধাবী ও ভদ্রস্বভাবের মো. আবু জুবায়ের পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তথা জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও ছিল তার সক্রিয় অংশগ্রহণ। শিক্ষাজীবনে তিনি বীরগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং পার্বতীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। বিতার্কিক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত থাকায় শিক্ষক ও সহপাঠীসহ সবার কাছেই তিনি অত্যন্ত সমাদৃত ছিলেন।
আজ মঙ্গলবার দুর্ঘটনা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে জুবায়েরের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী ভিড় জমান। বিকেল ৫টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
জুবায়েরের এই অকাল প্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বন্ধু, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।