বছরের পর বছর বিচার না পেয়ে রাজনীতি ছাড়নেল বিএনপি নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

একের পর এক স্বজন হত্যার শিকার হলেও তার কোনো বিচার না মেলায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ থেকে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল জলিল তোতা। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নিজ বাড়িতে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দুধ দিয়ে গোসল করে তিনি রাজনীতি থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ানোর এই ব্যতিক্রমী ঘোষণা দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জলিল প্রথমে বিএনপির সমর্থক এবং পরবর্তীতে একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনেও তিনি কাজী আজহার আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে একটি নির্বাচনী বুথের দায়িত্ব পালনসহ সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।

রাজনীতি বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করে আব্দুল জলিল বলেন, “২০১৮ সালের ৫ জুলাই আমার চাচাতো ভাই মুকুলকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছিল। আট বছর পার হয়ে গেলেও আজও সেই হত্যার বিচার পাইনি। এর মধ্যেই গত ২১ জুন আমার মামাতো ভাই ও ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বারবার স্বজন হারানোর কষ্ট আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছে।”

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “এই রাজনীতি মানুষের মধ্যে কেবল বিভেদ আর রক্তপাত বাড়াচ্ছে। তাই আমি আর এই নোংরা রাজনীতির সাথে থাকতে চাই না। নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে প্রতীকীভাবে দুধ দিয়ে গোসল করেছি। এখন কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি শুধু আমার স্বজনদের হত্যার ন্যায়বিচার ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এদিকে আব্দুল জলিলের এই ঘোষণাকে তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ। তিনি দাবি করেন, আব্দুল জলিল বিএনপির কোনো পদধারী নেতা বা কমিটির সদস্য নন এবং বর্তমানে দলের কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই। তাই তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের দায়ভার দল নেবে না।

তাসনিম হোসেন