লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার অন্যতম প্রধান আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ‘গাজী কমপ্লেক্স’-এ দীর্ঘদিন ধরে সুয়ারেজ বা বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বহুতল এই ভবনের পেছনের সেপটিক ট্যাংক উপচে মানববর্জ্য ও দূষিত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
উপচে পড়া বর্জ্যে ছড়াচ্ছে রোগজীবাণু ১১ তলা বিশিষ্ট রায়পুরের এই ব্যস্ততম বহুতল ভবনে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস রয়েছে। এর পাশাপাশি ভবনটিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বাণিজ্যিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কমপ্লেক্সের সুয়ারেজ লাইনে ত্রুটি থাকলেও ভবন কর্তৃপক্ষ তা সংস্কারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে ভবনের পেছনের সেপটিক ট্যাংকটি ধারণক্ষমতা হারিয়ে প্রতিনিয়ত মলমূত্র ও কালচে দূষিত ময়লা পানি উপচে আশেপাশের রাস্তায় গিয়ে জমছে। এতে করে পুরো এলাকা জুড়ে এক দমবন্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ছড়াচ্ছে নানা ধরনের রোগজীবাণু ও মশার উপদ্রব, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায় ধস ও এলাকাবাসীর ভোগান্তি ব্যস্ততম এই বাণিজ্যিক এলাকায় বর্জ্যের এমন উপচে পড়া রূপ নেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় পথচারী এবং ব্যবসায়ীরা। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা ওই এলাকার দোকানপাটে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন, যার ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। বহুতল ভবনের বাসিন্দাদেরও প্রতিদিন এই নোংরা পরিবেশের মধ্য দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।
দ্রুত পদক্ষেপের দাবি দিনের পর দিন এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এই দীর্ঘমেয়াদি নরকযন্ত্রণা ও পরিবেশ দূষণ থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে ভবন মালিক পক্ষ এবং স্থানীয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ।
—আব্দুল আহাদ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি।