টাঙ্গাইলে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জনকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও তাদের আট বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে লাঠি দিয়ে নির্দয়ভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৫১ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার একদল অনুসারী নিয়ে লাঠি হাতে হেঁটে আসছেন। এরপর একটি মাটির স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে উপস্থিত এক নারীর সাথে তর্কে জড়ান এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। নারীটি এর প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান প্রথমে সেখানে থাকা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এ সময় ওই নারী তার স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে চেয়ারম্যান তাকেও লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৭ জুন সকালে মহেড়া ইউনিয়নের তেঘরী কেশব গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী বাসন্তী রানীর পৈতৃক জমির ওপর জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে বাসন্তী রানীর বাবা ও স্থানীয়রা মিলে নিজেদের জমিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০১২ সালে সেই জমি স্ত্রীর নামে এবং পরবর্তীতে ২০২১ সালে দুই মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির পাঠদান বন্ধ থাকায় এটি এখন কেবল ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ফলে বাসন্তী রানীদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ পাশে বাসন্তী রানীদের নিজস্ব রেকর্ডীয় জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন প্রতিবেশী চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার।

ভুক্তভোগী বাসন্তী রানীর অভিযোগ, পৈতৃক জমি দখল করে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ায় চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তিনি নিজে লাঠি তুলে নিয়ে বাসন্তী রানী, তার স্বামী রামগোপাল সাহা এবং তাদের আট বছরের শিশুসন্তান পায়েলে সাহাকে মারধর করেন। শুধু তাই নয়, রাস্তা করার নামে তাদের রোপণ করা বেশ কয়েকটি গাছও কেটে ফেলা হয়। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন এই পরিবার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চেয়ারম্যান বিভাষ সরকারের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। ছোটখাটো যেকোনো বিষয়েই তিনি সাধারণ মানুষকে ডেকে এনে মারধর ও হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মহেড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির হাত থেকে নারী ও শিশুও রেহাই পায়নি, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব ছিল।

এদিকে মারধরের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করলেও জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার। তিনি দাবি করেন, স্কুলের জায়গার ওপর দিয়েই রাস্তা করা হচ্ছিল, কিন্তু ওই নারী সেখানে বাধা দেওয়ায় তিনি ‘কঞ্চি’ দিয়ে তাদের পিটিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তাসনিম হোসেন