অবিরাম ভারী বর্ষণের জেরে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সড়কের ওপর পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ ধসে পড়ায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, চালক ও স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতভর উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মতিপাড়া এলাকায় টানা মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলেই রাতের কোনো এক সময় পাহাড়ের একাংশ ধসে সরাসরি নিচের প্রধান সড়কের ওপর এসে পড়ে। মাটি ও পাথরে সড়কটি পুরোপুরি ঢেকে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কে সব ধরনের ভারী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য পাইসুইখই মারমা জানান, অতিবৃষ্টির কারণেই রাতের যেকোনো সময় এই পাহাড়ধসের ঘটনাটি ঘটেছে। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা যাতায়াত করতে গিয়ে সড়কের ওপর ধসে পড়া মাটির স্তূপ দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন। সড়কটি থেকে মাটি সরিয়ে দ্রুত সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বাঙ্গালহালিয়া সিএনজি চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন দাস জানান, পাহাড়ধসের তীব্রতার কারণে চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া প্রধান সড়কে সরাসরি যান চলাচল এখন পুরোপুরি অসম্ভব। তবে জরুরি যাতায়াতের জন্য ছোট এবং হালকা কিছু যানবাহন বিকল্প হিসেবে 'ডংনালা সড়ক' ব্যবহার করে ধীরগতিতে চলাচল করছে। মূল সড়কটি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এই রুটের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণের ফলে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সার্বিক পাহাড়ধস পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। এর আগেও রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনায় বেশ কয়েকটি সড়কে সাময়িকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, রেড ক্রিসেন্ট এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সড়ক থেকে ধসে পড়া মাটি ও উপড়ে যাওয়া গাছপালা দ্রুত অপসারণের পর যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়। মতিপাড়া এলাকার এই ধসটি সরানোর জন্যও উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।