ভোলার চরফ্যাশনে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় বা নকল করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যাপক তাণ্ডব, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে পরীক্ষার্থী-বহিরাগতদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পরীক্ষা কেন্দ্রের অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার পর প্রায় ১০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। রোববার (১২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করে চরফ্যাশন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী হাসান জানান, কেন্দ্র ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছিলেন। শনিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালীন একটি নির্দিষ্ট কক্ষের পরীক্ষার্থীরা হঠাৎ অভিযোগ তোলেন যে তাদের প্রশ্নপত্র কমন পড়েনি।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কয়েকজন পরীক্ষার্থী অবৈধ উপায়ে নকল করার চেষ্টা করেন। এ সময় কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষকরা শক্ত হাতে তাদের বাধা দিলে পরীক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নকল করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক ও উগ্র আচরণ শুরু করেন।
পরিস্থিতি আরও বিষিয়ে ওঠে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর। দুপুর ১টার দিকে একদল অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থী এবং বাইরে ওঁত পেতে থাকা বহিরাগত যুবকেরা একজোট হয়ে কলেজের পকেট গেট ভেঙে লাঠিসোঁটাসহ ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা মূল প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন কক্ষে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা শিক্ষকদের কাছ থেকে পরীক্ষার খাতা ও ওএমআর শিট ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
উচ্ছৃঙ্খল হামলাকারীদের ছোঁড়া ইটপাটকেলের আঘাতে পরীক্ষা কক্ষে ডিউটি করা সাতজন শিক্ষক এবং কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি রক্তাক্ত ও আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে।
পরবর্তীতে কেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশসহ উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ শুরু করেন এবং দুই রাউন্ড টিয়ারশেল (কাঁদানে গ্যাস) নিক্ষেপ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পুরো সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পরীক্ষা কেন্দ্র ও আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।