বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫ জুন ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

প্রকৃতি সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার প্রত্যয়ে বাংলাদেশে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানসহ নানা আয়োজন করেছে।

এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’। পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ রোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পরিবেশগত সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বায়ুদূষণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। ফলে পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে সুইডেনের রাজধানী Stockholm-এ অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানব পরিবেশবিষয়ক সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ৫ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে।

পরিবেশবিদদের মতে, কেবল সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং বেশি করে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

তাদের মতে, সম্মিলিত উদ্যোগই পারে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে।

তাসনিম হোসেন