রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে নতুন করে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অর্থে কেনা শিক্ষার্থী পরিবহনের বাসগুলো স্কুলের নামে নিবন্ধনের নিয়ম থাকলেও তা নিজের ও স্ত্রীর নামে নিবন্ধন করে বাসগুলোর লভ্যাংশ ও আয় ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করছেন তিনি।
দৈনিক ইত্তেফাকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য স্কুলের টাকায় ক্রয় করা বাসগুলোর আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা বাসগুলো নিজের নামে বিআরটিএ থেকে নিবন্ধন করিয়েছেন। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারে শিক্ষার্থীদের বাসগুলো বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, বিবাহ উৎসব, পিকনিক কিংবা শিক্ষা সফরে মোটা অঙ্কের ভাড়ায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি বাস থেকে দৈনিক ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়ার এই টাকা স্কুলের অফিশিয়াল তহবিলে জমা না হয়ে সরাসরি অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব বা পকেটে চলে যাচ্ছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবপত্রে ঠিকই বাস পরিচালনা খাতে উল্টো লোকসান দেখিয়ে আসছেন তিনি।
অন্যদিকে, নিয়মিত যাতায়াতের জন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও দূরত্বভেদে মাসিক ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত চড়া পরিবহন ফি আদায় করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিটি বাস থেকে প্রতি মাসে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ওপরে আয় হওয়ার কথা থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক বিবরণীতে তার ন্যূনতম কোনো প্রতিফলন বা সদুত্তর পাওয়া যায় না।
এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শুরুতেই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বাসগুলো তার নিজের নামে থাকার বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে তিনি ভিন্ন যুক্তি দিয়ে দাবি করেন যে, বাসগুলো কেনার সময় নাকি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব টিআইএন (TIN) সনদ প্রস্তুত ছিল না, তাই সাময়িক সময়ের জন্য তার ব্যক্তিগত টিআইএন ব্যবহার করে সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল।
তবে দীর্ঘ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কেন বাসগুলোর প্রকৃত মালিকানা প্রতিষ্ঠানের নামে হস্তান্তর বা পরিবর্তন করা হলো না—এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া বাসগুলোর সার্বিক পরিচালনা থেকে আসা আয় এবং ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাবপত্র দেখতে চাওয়া হলেও তিনি তা দেখাতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান।